Loading
বঙ্গভাষাbangobhasha
হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন; – তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি। কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি। অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ, মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি; – কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন! স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে – “ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি, এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি? যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!” পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে।
হে বঙ্গ, তোমার ভাণ্ডারে নানা রতন আছে; আমি (অবোধ!) সেসবের প্রতি অবহেলা করি, পরের ধন লাভের লোভে মত্ত হয়ে, আমি ভ্রমণ করেছি বিদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে পালন করেছি। অনেক দিন ধরে সুখকে ত্যাগ করেছি। অবিরত, অনাহারে কষ্ট পাচ্ছি, মনঃ বিফল তপস্যায় অবরুদ্ধ হয়ে আছি; শৈবাল কেলি করেছি; কমল-কানন ভুলে গেছি! স্বপ্নে তোমার কুললক্ষ্মী বলল পরে – “ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি, এ ভিখারী দশা কেন তোর আজ? যা ফিরি, অজ্ঞ, তুমি, যা ফিরি ঘরে!” আজ্ঞা পেয়ে পালালাম সুখে; পেলাম কালে মাতৃভাষার রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে।